শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫
Editor BD24
শুক্রবার ● ২৭ জুলাই ২০১৮
প্রচ্ছদ » অন্যান্য » শিশু নির্যাতন এখন মহামারী
প্রচ্ছদ » অন্যান্য » শিশু নির্যাতন এখন মহামারী
৩৭৫ বার পঠিত
শুক্রবার ● ২৭ জুলাই ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শিশু নির্যাতন এখন মহামারী

---রুখসানা আমিন : বর্তমানে কিছুদিন যাবৎ শিশু নির্যাতন শিশু হত্যা এমন ভাবে চলছে এবং বেড়েই যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে মহামারি আকার ধারণ করেছে। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত মহামারী হয়েছে প্রত্যেকটাই নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাময় যোগ্য আর হয়েছেও তাই হয়তো একটু সময় লেগেছে। রোগ যেমন আছে ঔষধও আছে থাকবে। আবিস্কারও হচ্ছে এটাই স্বাভাবিক ভাইরাসের এন্টিভাইরাসতো আছেই।

 

কিন্তু বর্তমানে শিশু হত্যা এমন ছাড়াচ্ছে বা বেড়েই যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এ যেন আর নিয়ন্ত্রণ হবার নয়। এটা খুব অস্বাভাবিক এ আবার কোন মহামারি? দিন যত যাচ্ছে এ মহামারি না কমে বেড়েই যাচ্ছে। আজ কয়েক বছর যাবৎ দেখছি শিশু নির্যাতন নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা হয়েই গেছে আর এখনতো মহামারি আকার ধারণ করেছে।

 

গত বছরের আগের বছর শিশু জিহাদ চলে গেল। তোলপাড় করে গেল সারা দেশ একই ভাবে গত বছর শিশু নিরব একই ভাবে খুব নিরবে চলে গেল। তোলপাড় দূরের কথা অনেকেই জানতেও পারলোনা নীরবের বাবা মাও অদৃশ্য ইশারায় নিরব থাকলো এতো নিরবতার কারণেই আজ মহামারি।

শিশু গুম, অপহরণ বেড়েই চলেছে, অপহরণ করছে কারো পনের দিন, কারো একমাস, কারো দুই মাস কারো ছয় মাস পর লাশ পাওয়া যাচ্ছে। কারো লাশের হুদিসও পাওয়া যাচ্ছে না। সমান ভাবেই চলছে শিশু ধর্ষণ।

 

খুব সামান্য বিষয়ে শিশুদের গাছের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে পিটিয়ে বিভিন্ন ভাবে হাত পা ভেঙ্গে মাথা থেতলে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যে যে ভাবে পারছে যখন যে ভাবে মন চাইছে সেভাবেই করছে, এর হিসেব নেই। নির্যাতন করে আবার তা ভিডিও করে আনন্দ উৎসবও করা হয়। বিচার হচ্ছে হাতে গোনা দু’চারটা উজ্জল দৃষ্টান্ত তাতে হবেনা।

 

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর দেওয়া তথ্যে ২০১৫ সালে দেশে বিচার বহির্ভূত ভাবে মোট ১৮৫ জনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে গণপিটুনিতে এক বছরে নিহত ১৩২ জন শিশু। হত্যা এখন নৈমিত্তিক পৈশাচিকতা।

 

গত এক মাসে ৩১ দিনে  ৩১ শিশু খুন। অভিভাবক চরম আতংকে ঘরে বাইরে কোথাও আর নিরাপদ নয় কোমলমতি শিশুরা। চলতি বছরে মাত্র একমাস সময়ে ৩১ শিশুকে হত্যা করেছে ঘাতকরা। এর মধ্যে ১ জানুয়ারী থেকে ২৯ জানুয়ারী পর্যন্ত হত্যার শিকার হয়েছে ২৯ জন শিশু। বেসরকারী সংস্থা শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১২ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত শিশু হত্যার হার বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে এ হার ২০১৪ সালের তুলনায় ছিল কিছুটা কম। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতেই শিশু হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আগের সব হারকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে ২০১২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত এক হাজার ৮৫ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে ২০৯, ২০১৩ সালে ২১৮, ২০১৪ সালে ৩৬৬ ও ২০১৫ সালে ২৯২ শিশু শিকার হয়েছে হত্যার। ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত অপহরণের পর ১১১ জন শিশুকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। আর ২০১২ সালে ৬৭ শিশু অপহরণের শিকার হয়। এদের মধ্যে ১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আর বাকী ৫০ জন শিশুর বিষয়ে কোন তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।

 

এমন কোন দিন নেই প্রতিদিন টিভি খুললে এবং পত্রিকা খুললেই কোন না কোন শিশু নির্যাতন শিশু অপহরণ শিশু হত্যার ঘটনা থাকবেই বা চোখে পরছেই। এই যদি হয় গণমাধ্যম বা পত্র-প্রত্রিকার অবস্থা, তবে তার বাইরে কি অবস্থা তাতো সহজেই অনুমান করা যায়।

 

এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ কি থাকবে? কিছুই থাকবে না। আমরা সবাই জানি আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমরা নিজেরাই যদি নিজ হাতে ভবিষ্যৎ এভাবে হত্যা করি, তবে আমাদের থাকবে কি আর করবই বা কি? শিশুরাই বা শিখবে কি। ওরা যা দেখছে তাইতো শিখবে। তবে আমরা কি শিখাচ্ছি?

 

প্রতিটি নির্যাতন বা হত্যার বিচার তাৎক্ষণিক হতে হবে সু-শাসন থাকতে হবে, তবেই আস্তে আস্তে কমে আসবে। সকলকে সচেতন হতে হবে, সকলকে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। এখনও সব কিছুই হয়, তবে অনেক নিরবে এই নিয়ন্ত্রিত নিরবতা আমাদেরকে নিরবেই শেষ করে দিবে। সবাইকে জেগে উঠতে হবে।

 

সু-নাই, শাসনও নাই, সু-শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিচার কাজ অচিরেই শুরু করতে হবে। জবাব দিহিতা থাকতে হবে। বর্তমানে এমন একটা অবস্থা যার যার ইচ্ছা মতো চলছে, করছে, খাচ্ছে। কোন জবাব দিহিতা নাই তাই এতো নিরব অন্যায় চলছে। জবাব দিহিতা থাকতে হবে। জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য যাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা সেই দায়িত্ব যথাযথ পালন করছে না। অস্ত্র ব্যবহার করছে নিজের প্রয়োজনে, জনগণের জানমাল রক্ষার স্বার্থে নয়। অর্থাৎ রক্ষক হয়ে গেছে ভক্ষক। আগে মানুষ বিপদে পরলে দৌড়ে পুলিশের কাছে যেতো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নিরাপত্তার জন্য। আর এখন পুলিশ দেখলে দৌড়ে পালায় বিপদে পরে যাবে সেই ভয়ে এখন আর আস্থার জায়গাটি নাই। এখন পুলিশ মানে আতঙ্ক। তাই এই অবস্থা। অল্প কিছু আছে শুধু ব্যতিক্রম তাতে হবে না। এতে করে আমরা সাধারণ জনগণ অসহায় হয়ে পরেছি এবং পরিস্থিতির স্বীকার বা জীম্মি হয়ে গেছি। জনগণের ক্ষমতা এবং স্বাধীনতা জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে। তবেই জনগণ নিরাপদ থাকবে।

রাজনীতি কারা করছে, কেন করছে? তা আজ বড় প্রশ্ন হয়ে গেছে। নীতির কোন বালাই নেই, শুধু আছে বড় বড় কথা আর চাটুকারীতা। রাজনীতি হয়ে গেছে এখন শুধুমাত্র পকেটনীতি। সবাই সবার পকেটের মধ্যেই রাজ নীতিকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। নিজের পকেট ভরলেই সব হয়ে গেলো। বিষয়টা এমন হয়ে গেলো। কেউ কারো কথা বলছেনা, ভাবছেনা। সবাই শুধু নিজের আখের গোছানো নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আর তেল মারা, তোষামোদ করা আর কিভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, গাড়ি-বাড়ি করা যায়, এর বাইরে আর কেউই কিছু করছে না। করছে শুধু আলোচনা-সমালোচনা আর চলছে দোষারোপের রাজনীতি। ক্ষমতার মালিক জনগণই হয়ে গেল ক্ষমতা শূন্য। ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে জোড় করে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখার চেষ্টা চলছে।

 

আমরা এই নীতিহীন নোংরা রাজনীতির স্বীকার আর হতে চাইনা। চাইনা আর একটি শিশুও নির্যাতিত হউক। প্রতিটি শিশু স্বাধীন, সুস্থ, সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে। এই অধিকার লঙ্ঘন করার অধিকার কারো নেই। সবাই স্বাধীন দেশের নাগরিক। মানবাধিকারের নামে মানব অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এটা প্রতিরোধ করতে হবে।

একজন মুক্তিযোদ্ধা জুতা সেলাই করে দিন পার করছে, অর্থাৎ মুচি, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনার কেউ নেই, এতো বৃদ্ধ বয়সে এমন কাজ করছেন? উত্তরে উনি বলল ছেলে মেয়ে বড় হয়ে বিয়ে করে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে তাই আর আমাকে দেখার কেউ নেই। তাই জুতা সেলাই করে নিজের পেটের ভাত জোগাড় করছি। এছাড়া আর কি করবো। আর আফসোস করে বলছে এই জন্যই কি সেদিন জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিলাম? আর যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম? এই বুঝি ছিল শেষ বয়সে কপালে? জিজ্ঞেস করা হলো আপনার সনদ আছে? বলল আছে। ও দিয়ে আর কি হবে। অথচ আজো নাকি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাই বানানো শেষ হয়না। কোন একজন মন্ত্রী কয়েক দিন আগেও বলল সব মুক্তিযোদ্ধাদের দায়িত্ব আমরা নেবো। কারো পরিবারের আর কোন কষ্টই হবে না। তবে এখনও এদের এই অবস্থা কেন? চাটার দল চাটুরীকতা করে দিব্যি ভালো আছে আর প্রকৃত যোদ্ধারা না খেয়ে মরছে অবহেলায়। এটা ভাবাই যায়না একি স্বাধীন দেশের দৃশ্য? নাকি উন্নয়নশীল ডিজিটাল দেশের চেহারা? আরেকজন মন্ত্রী বলল- ৩০ সাল পর্যন্ত আর কেউই না খেয়ে মরবে না। ক্ষুদামুক্ত বাংলাদেশ গড়বে তবে বোঝা যায় এখনও অনেকে না খেয়ে মরছে এবং ৩০ সাল পর্যন্ত মরতেই থাকবে। তারপরও আমরা বলছি ডিজিটাল বাংলাদেশ বা বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে? এ যদি হয় আগানোর নমুনা, তবে পিছানোর অবস্থা কি হবে? আমরা এই ভাবে আগাতে চাই না।

 

আমরা আইনের সু-শাসনের মাধ্যমেই বিচার চাই। চাই সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাক। সেই স্বীকৃতি দিতে একজন মানুষেরও দ্বিমত থাকবে না। শিশু হত্যার মতো মহামারি শক্ত হাতে দূর করে শিশুর হাসি দিয়ে দেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে হবে। আমি তাই বলতে চাই এটা সব শিশুর ন্যায্য অধিকার। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে আর কোন বাঁধাই থাকবে না।

 

 

ডাঃ রুখসানা আমিন সুরমা

কবি ও লেখক

ইমেইল : ruksanasurma@gmail.com



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
চাষী কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম মহানগরীর চারা বিতরণ সম্পন্ন
সাপাহারে পরিবেশ সংরক্ষণে পুলিশের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত
ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি তালিকায় এবার যুক্ত হলো উগান্ডা
মিউজিক ভিডিওতে নিলয়-শেহতাজ (ভিডিও)
শ্রীমঙ্গলে রয়েল ট্রাভেলস লিংকের যাত্রা শুরু
কক্সবাজারে পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবি সুশীল সমাজের
শিশু নির্যাতন এখন মহামারী
কেমন আছি আমরা সবাই