আজ : মঙ্গলবার | ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং | ৮ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

কোটাপদ্ধতি সংস্কার চেয়ে বিক্ষোভ, আটক ৫০

gthghgএডিটর ডেস্ক : কোটাপদ্ধতি সংস্কার চেয়ে করা বিক্ষোভ থেকে থেকে অন্তত ৫০জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর ও বিকালে আটকের এই ঘটনা ঘটে। আল-আমিন আশিক নামে একজন আন্দোলনকারী ইত্তেফাককে জানান, বুধবার দুপুরে ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে হাইকোর্ট মোড়ের অবস্থান কর্মসূচি থেকে তাদের পাঁচজনকে আটক করে রমনা থানা পুলিশ। বিকালে আটককৃতদের ছাড়াতে গেলে পুলিশ আবার অন্তত ৪০-৪৫জনকে আটক করে।

আন্দোলনকারীরা ও প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ১১ মার্চের সাইকেল র‌্যালি থেকে তারা ১৪ মার্চ কোটা সংস্কারের দাবিতে সারা দেশে ডিসি কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। আন্দোলনকারীরা গ্রন্থাগারের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ এতে বাধ সাধে। গ্রন্থাগারের দরজা বন্ধ করতে চাইলে আন্দোলনকারীরা বাধা দেন। তরা গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা না দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে পাঁচ হাজারেরও বেশি আন্দোলনকারী শাহবাগে ব্যানার ও প্লাকার্ড নিয়ে মিছিল বের করেন। তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনকারীরা জনপ্রশাসন মন্ত্রাণালয়ে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য রওনা হয়। হাইকোর্ট মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকে। এসময় পুলিশ হঠাৎ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে নারী আন্দোলনকর্মীসহ তাদের অন্তত ২০জন আহত হয়। পুলিশ আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ফারুক, মামুন, রাশেদসহ পাঁচজনকে আটক করে। পরে তাদের ছাড়াতে বিকালে অন্তত পাঁচ শতাধিক আন্দোলনকারী রমনা থানায় যায়। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এসময় সেখান থেকে ৪০-৪৫জনকে আটক করা হয়। পরে আন্দোলনকারীরা শাহবাগে জড়ো হয়ে আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। সন্ধ্যা ৭টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে কয়েক শ’ আন্দোলনকারী অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

এর আগে কোটা সংস্কারের পাঁচ দফা দাবিতে কয়েক দফায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল কোটা ব্যবস্থার সংস্কার প্রত্যাশীরা। তাদের দাবিগুলো হলো- কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ ভাগ থেকে ১০ ভাগে নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্যপদে মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়া, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ করা এবং চাকরি নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিক বার ব্যবহার না করা।

গত ৭ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোটায় যোগ্যপ্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য থাকা পদে মেধায় নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।-দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

আরো সংবাদ