আজ : মঙ্গলবার | ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং | ৮ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

আবারো বাড়তে পারে গ্যাসের দাম

fgএডিটর ডেস্ক : বাসাবাড়িকে বাদ দিয়ে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবাসিক ছাড়া অন্য সব খাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে আবাসিক গ্রাহকের আশান্বিত হওয়ার কিছু নেই। এলএনজি আমদানি আরো বাড়লে আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের দামও বাড়বে। নতুন প্রস্তাবনায় বিদ্যুৎ, সারকারখানা, শিল্প, ক্যাপটিভে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সিএনজিতে ২০ শতাংশ দাম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রতি ঘনমিটার শিল্পে ১৬ টাকা, বিদ্যুতে ১০ টাকা, সারে ১২ টাকা ৮০ পয়সা, সিএনজিতে ৪০ টাকা থেকে ৪৮, ক্যাপটিভে ১৬ টাকা এবং চা-শিল্পে ১২ টাকা ৮০ পয়সা নতুন দাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মশিউর রহমান বলেন, তারা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছেন ২০শে মার্চ বিকালে।

তিনি জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই প্রস্তাব তৈরি করেছেন তারা। এখন বিইআরসিই সিদ্ধান্ত নেবে কত টাকা দাম বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাসাবাড়ির জন্য গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়। বিইআরসি দুই দফায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিলেও উচ্চ আদালতের রায়ে দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড়মূল্য সাত টাকা ৩৫ পয়সা। গতবার সরাসরি দুই চুলার দাম ৬০০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছিল বিতরণ কোম্পানি। তখন কমিশন ৯৫০ টাকা তা নির্ধারণ করে দেয়। যদিও কমিশনের আদেশের পর উচ্চ আদালত দ্বিতীয় ধাপে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় এখন ৮০০ টাকাই রয়েছে দুই চুলার গ্যাসের দাম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি আসার পর গ্যাসের যে মূল্য বৃদ্ধি ঘটবে, তা পর্যায়ক্রমে সমন্বয়ের জন্যই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ২৫শে এপ্রিলের পর থেকে থেকে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যুক্ত হবে। দেশি গ্যাসের চেয়ে এলএনজির দাম বেশি বলে লোকসান কমাতে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, কোম্পানিগুলো একই হারে দাম বাড়ানোর অভিন্ন প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এতে গড়ে ৭০ থেকে ৪০০ শতাংশের বেশি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের ওপর গণশুনানির জন্য বিইআরসি আগামী সপ্তাহের দিকে দিন নির্ধারণ করবে। নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানি শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে যে কোনো সময় দাম বাড়ানো কিংবা সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকরের ঘোষণা দেয়া হয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসের ২৬ তারিখের আগে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। বর্তমানে মোট উৎপাদিত গ্যাসের প্রায় ১৫ শতাংশ বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এলএনজি আকারে এলেও তা গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে মিশ্রণ আকারে যোগ করা হবে। দ্বিতীয় দফায় অক্টোবর মাসে আরো ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি বর্তমান গ্যাসের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার এলএনজি বিক্রি হচ্ছে ১৩ দশমিক ৫২ টাকায়। অপরদিকে স্থানীয়ভাবে দেশে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম রাখা হচ্ছে গড়ে ৭ দশমিক ৩৫ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, গণশুনানিতে তারা এর তীব্র বিরোধিতা করবেন। তিনি বলেন, গ্যাস খাতের প্রতিটি কোম্পানির হাতে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে, যা দিয়ে এলএনজির বাড়তি টাকা পরিশোধ সম্ভব হবে। এই অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এই প্রসঙ্গে বিআইরসির সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী গণশুনারি তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এরপর দাম বাড়বে না সমন্বয় হবে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ