আজ : বুধবার | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৩শে মে, ২০১৮ ইং | ৮ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী

শরিয়তপুরের নিপুকে আমেরিকার টিকিট দিলো ওয়ালটন

nipuএডিটর ডেস্ক : আমেরিকা! স্বপ্নের দেশ। জীবনে অন্তত একবারের জন্য হলেও এই দেশটিতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন বেশিরভাগ বাংলাদেশি। ইচ্ছে থাকলেও এত বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করেননি তানজিন সুলতানা নিপু। পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পে মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করেন তিনি। অল্পতেই খুশি। তিনি ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনে পেলেন আমেরিকা যাওয়ার বিমান টিকিট। যা তার কাছে স্বপ্নের চেয়েও বড়।

চলমান ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে গতকাল সোমবার শরিয়তপুরের জাজিরার পদ্মা ইলেকট্রনিক্স থেকে ২৯ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে ওয়ালটনের ১৪ সিএফটির গ্লাস ডোর ফ্রিজ কেনেন নিপু। ফ্রিজ কেনার পর নিয়ম অনুযায়ী মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ওয়ালটন থেকে ঢাকা-আমেরিকা-ঢাকার বিমান টিকিট পাওয়ার এসএমএস যায় তার মোবাইলে। এত বড় পুরস্কার পাওয়ায় খুশির বন্যা বইছে নিপুর পরিবারে। তানজিন সুলতানা নিপুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার বাবার বাড়ি শরিয়তপুরের জাজিরা থানার কবিরাজ কান্দি গ্রামে। বিয়ে হয়েছে একই জেলার নড়িয়া থানায়। স্বামী আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া ছিলেন। বর্তমানে দেশেই থাকছেন। দুই ছেলে নিয়ে তাদের চারজনের ছোট সংসার।

ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ঢাকা-আমেরিকা-ঢাকার বিমান টিকিট পাওয়া নিয়ে কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তানজিন সুলতানা। জানান, তিনি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন, তখন তার বাবা সিলেট গিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর মা-ই অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন তিন সন্তানকে। সবার বড় হওয়ায় মা-ভাইদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তানজিন। জীবনসঙ্গী হিসেবে যাকে পাশে পেয়েছেন সেই আব্দুল মান্নানও সব সময় সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।

ওই এলাকায় পোস্টিং হওয়ায় এত দিন বাবার বাড়ি কবিরাজ কান্দিতে মায়ের সঙ্গেই ছিলেন তারা। সম্প্রতি নড়িয়ার মুক্তারের চরে বদলি হন তিনি। সরকারি কোয়ার্টারও মিলে যায়। স্বামী ও বড় ছেলেকে নিয়ে বর্তমানে সেখানেই থাকছেন। ছোট ছেলে থাকছে তার মায়ের সঙ্গে। এর মধ্যে ম্যাটারনিটি বিষয়ে ৬ মাসের ট্রেনিংয়ে ঢাকায় যান নিপু। সংসারের একমাত্র ফ্রিজটি নতুন বাসস্থানে নিয়ে গেছেন। ট্রেনিংয়ে থাকাকালীন জানতে পারেন ফ্রিজ ছাড়া মায়ের খুব কষ্ট হচ্ছে। ছুটি নিয়ে তখনই ফ্রিজ কিনে দেওয়ার জন্য মায়ের কাছে কবিরাজ কান্দিতে ছুটে আসেন। স্বামীকে নিয়ে ওই দিনই জাজিরা বাজারে ফ্রিজ কিনতে ওয়ালটন শোরুমে যান তিনি।

ওয়ালটন ফ্রিজ কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় গেলে মামার বাসায় উঠি। মামার ঘরে ফ্রিজ-টিভি-ব্লেন্ডার থেকে শুরু করে সব ইলেকট্রনিক্স পণ্যই ওয়ালটনের। মামী বলেন এই কোম্পানির পণ্য ব্যবহার করে তারা খুব ভালো সার্ভিস পাচ্ছেন। এরপর ইলেকট্রনিক্স পণ্য কিনলে ওয়ালটন থেকেই কেনার পরামর্শ দেন তিনি। আমি নিজেও পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি ওয়ালটন বাংলাদেশি ব্র্যান্ড। তারা দেশেই তৈরি করছে টিভি-ফ্রিজ-এসিসহ বিভিন্ন উচ্চমানের পণ্য। তাই দ্বিতীয় চিন্তা না করেই ওয়ালটনের ডিলার শোরুম জাজিরার পদ্মা ইলেকট্রনিক্সে যাই। সেখান থেকে যাচাই করে ১৪ সিএফটির গ্লাস ডোরের একটি ফ্রিজ পছন্দ করি। নগদ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে ফ্রিজটি কিনি আমরা।’

ফ্রিজ কেনার আগে পদ্মা ইলেকট্রনিক্সের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল হালিম তানজিন সুলতানা নিপুকে জানান, ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে বিশেষ অফার চলছে। এর আওতায় আমেরিকা ও রাশিয়ার যাওয়ার এয়ার টিকিটসহ সুযোগ আছে টিভি-ফ্রিজ বা এসি পাওয়ার। এসব কিছু না পেলেও নিশ্চিত ক্যাশব্যাক রয়েছে। তার কথা শুনে হাসেন তানজিন। বলেন, ‘জীবনে কোনোদিন কিছু পাইনি। আজ আর ভাগ্যে কী জুটবে! হয়তো সর্বনিম্ন টাকার ক্যাশ ব্যাকটাই পাব।’

উত্তরে আব্দুল হালিম বলেন, ‘দেখেন আপনার ভাগ্যে আমেরিকা যাওয়ার টিকিট লেগে যেতে পারে।’ তানজিন তাকে বলেন, ‘অত বড় স্বপ্ন দেখি না। মাদারিপুর যাওয়ার টিকিট পেলেই খুশি হই।’

কিন্তু কী আশ্চর্য! তানজিন যে স্বপ্ন দেখার সাহস করেননি। যা তার কল্পনারও অতীত ছিল- তাই ঘটেছে। ফ্রিজ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পরপরই তার মোবাইলে নতুন মেসেজ আসার রিংটোন বেজে ওঠে। মোবাইল খুলে দেখেন সেটি ওয়ালটন থেকে এসেছে। যেখানে লেখা তিনি ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ঢাকা-আমেরিকা-ঢাকার এয়ার টিকিট পেয়েছেন। মেসেজ দেখে অবিভূত হয়ে পড়েন তানজিন। স্বামী-সন্তানকে ডেকে দেখান। আনন্দের সঙ্গে তাদের মনে সংশয়। এত বড় পুরস্কার কী সত্যিই পেয়েছেন! সবাই উত্তেজিত। তখনই ছুটে যান ওয়ালটন শোরুমে। সেখান থেকে পুরস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ খবরে আনন্দের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে ব্যাপারটা জানান তারা।

‘এখনো ঘোরের মধ্যে আছি,’ বলেন তানজিন। ‘কাল থেকে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে একের পর এক ফোন আসছে। সবাই খুব খুশি। আমাদের নিজেদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার নয়। এটা স্বপ্ন নাকি বাস্তব সেই ঘোর কাটছে না।’

তিনি বলেন, ‘ওয়ালটন পণ্য ব্যবহারের আগে অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু আত্মীয়-স্বজন এবং আমাদের এলাকার প্রায় সব বাড়িতেই ওয়ালটনের ফ্রিজসহ অন্যান্য সব পণ্য। সবাই ভালো বলছে। আমি নিজেও দেখেছি তাদের ফ্রিজের দাম অন্যান্য বিদেশি কোম্পানির চেয়ে অন্তত অর্ধেক কম। তা ছাড়া, অনেক বেশি মডেল থেকে বেছে নেওয়া যায়। আমার বিশ্বাস ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ওয়ালটনই সেরা। এখন থেকে যা-ই কিনব, ওয়ালটন থেকে নেব।’

এদিকে জাজিরায় ওয়ালটনের ডিলার পদ্মা ইলেকট্রনিক্সের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল হালিম জানান, ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে তানজিনের আমেরিকা যাওয়ার বিমান টিকিট পাওয়ার সংবাদে পুরো এলাকায় হৈ চৈ পড়ে গেছে। উৎসুক মানুষ আমাদের শোরুমে ভিড় করছেন। কেউ আবার যাচ্ছেন ক্রেতার বাড়িতে। সবার মাঝেই বিস্ময়। শোরুমে বিক্রিও বেড়েছে।

ওয়ালটন সূত্রে জানা গেছে, বিক্রয়োত্তর সেবাকে অনলাইন কার্যক্রমে নিয়ে আসার লক্ষ্যে দ্বিতীয় বারের মতো দেশব্যাপী ডিজিটাল ক্যাম্পেইন শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ক্যাম্পেইন চলাকালীন ওয়ালটন প্লাজা ও পরিবেশক শোরুম থেকে ক্রেতারা প্রতিদিন ওয়ালটন ফ্রিজ, টিভি অথবা এসি কিনে তা রেজিস্ট্রেশন করলেই সুযোগ থাকছে ওয়ালটনের ফ্রিজ, টিভি অথবা এসি সম্পূর্ণ ফ্রি পাওয়ার। একই সঙ্গে থাকছে আমেরিকা ও রাশিয়া ভ্রমণেরও সুযোগ। এমনকি ওইসব সুবিধা না পেলেও থাকছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত মূল্য ফেরত।

ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আওতায় গ্রীষ্মকালের জন্য ওয়ালটন ফ্রিজ ও এসিতে এবং বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ওয়ালটন টিভিতে এসব সুবিধা থাকবে আগামী ৩০ জুন, ২০১৮ পর্যন্ত।

Leave a Reply

আরো সংবাদ