আজ : বৃহস্পতিবার | ৭ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১শে জুন, ২০১৮ ইং | ৭ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

খালেদার আইনজীবীদের দুই রকম বক্তব্য

এডিটর ডেস্ক : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তার আইনজীবীদের দুই রকম বক্তব্য এসেছে।
এখন প্যারোল ছাড়া খালেদার মুক্তির উপায় নেই- খন্দকার মাহবুব হোসেনের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন আরেক আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। প্যারোলের বক্তব্য খন্দকার মাহবুবের ‘ব্যক্তিগত মত’ বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন জয়নুল আবেদীন।

খন্দকার মাহবুব ও জয়নুল দুজনই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। বিএনপির প্যানেল থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন খন্দকার মাহবুব, জয়নুল এখন সভাপতি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এক্ষেত্রে জয়নুল আবেদীনকেই সমর্থন করছেন।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে চার মাস ধরে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। মামলাটিতে আপিল করে জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তার মুক্তি আটকে আছে। তার জামিনের আবেদন বিবেচনাধীন অবস্থায় বুধবার খন্দকার মাহবুব ঢাকায় তার বাড়িতে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এখন সরকার কেবল প্যারোলে মুক্তি দিলে খালেদা জিয়া বেরিয়ে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এলে জয়নুল আবেদীনের কাছে খন্দকার মাহবুবের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, “আমাদের একজন আইনজীবী (খন্দকার মাহবুব) সংবাদ সম্মেলন করে প্যারোলে মুক্তি চেয়েছেন।

“আমরা মনে করি, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত। আমরা আইনজীবী সমাজ এটি মনে করি না। তার ব্যক্তিগত মতামতের উপরে আমরা কোনো বক্তব্য রাখতে চাই না।”

নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রিজভী বলেন, “আইনজীবীরা কী বলেছেন, আমি জানি না। “আমি দলের পক্ষ থেকে জানি, উনাকে (খালেদা জিয়া) নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। কোনো শর্তে মুক্তি নয়, আমরা ঈদের আগেই তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”

খালেদাকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়ে জয়নুল বলেন, “অতীতে এরকম অনেক উদাহরণ আছে যে, কয়েদিরা ব্যক্তিগতভাবে খরচ বহন করে চিকিৎসা নিতে পারেন। সেই কারণেই পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনটি করা হয়।

“আমাদের বিশ্বাস ছিল যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে আবেদন গ্রহণ করে ইউনাউটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করবে। কিন্তু খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছে।”

খালেদা জিয়া ইউনাইটেডে যেতে চাইলে সরকার সরকারি হাসপাতাল বিএসএমএমইউতে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তাতে খালেদা রাজি না হওয়ায় এখন সিএমএইচে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রিজভী বলেন, “বিএনপির পক্ষ থেকে আমি পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা নিন। ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া কোথাও তিনি চিকিৎসা নেবেন না।”

মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের’ প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, যেখানে খালেদা জিয়াকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন জয়নুল। সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ সমিতির বিএনপিপন্থি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, “আমরা চাই বাংলাদেশ মাদকমুক্ত হোক। কিন্ত তা অবশ্যই আইন মোতাবেক হতে হবে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নয়।

“আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বেআইনি কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। আমরা জানতে পেরেছি, প্রায় ২০০ জনের বেশি নাগরিককে এরই মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করা হয়েছে। অথচ সরকারের ছত্রছায়ায় অনেক গডফাদার দেশের বাইরে চলে গেছে। এটা কোনো সভ্য দেশে কাম্য হতে পারে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ