আজ : শুক্রবার | ১লা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৭শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

মুশফিকের সেঞ্চুরিকে ম্লান করে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়

Bangladesh-v-South-Africaএডিটর ডেস্ক : বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিকে ম্লান করে দিয়ে রোববার কিম্বার্লিতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকাকে সহজ জয়ের স্বাদ দিলেন দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলা। ব্যাট হাতে ডি কক ও আমলার সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০ উইকেটের জয়ের স্বাদ পেয়েছে প্রোটিয়ারা। এই নিয়ে তৃতীয়বারের বাংলাদেশকে ১০ উইকেটের ব্যবধানে হারালো দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের ছুঁেড় দেয়া ২৭৯ রানের টার্গেট ডি ককের অপরাজিত ১৬৮ ও আমলার অপরাজিত ১১০ রানে স্পর্শ করে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুরের মতো টস ভাগ্য ওয়ানডে দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দু’টি টেস্টেই টস জিতেছিলেন মুশি। এবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস ভাগ্যে জিতলেন ম্যাশ। টস ভাগ্যে মুশফিকুরের মত হলেও, সিদ্বান্তের বেলায় ভিন্নতা দেখালেন মাশরাফি। দু’টি টেস্টে আগে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন মুশি, আর প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাটিং বেছে নেন ম্যাশ।

তাই অধিনায়কের সিদ্বান্তটা সঠিক তা প্রমানের পথেই হাটচ্ছিলেন বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস। ইনজুরির কারণে একাদশে ছিলেন না তামিম ইকবাল। আর ফর্মহীনতার কারণে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার। নিজেদের প্রমানের সুযোগে উদ্বোধণী জুটিতে ৫৩ বলে ৪৮ রান করেন তারা। ৪টি চারে ২৯ বলে ২১ রানে আউট হন লিটন।

এরপর ইনিংস মেরামতের কাজটা চালিয়ে নিচ্ছিলেন ইমরুল ও সাকিব। তবে ইমরুলের ভুল শটে এই জুটি গিয়ে থামে দলীয় ৬৭ রানে। উইকেটে ভালোভাবে সেট হয়ে ৪৩ বলে ৩১ রান করেন ইমরুল। তার ছোট্ট ইনিংসে ৪টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো।

দীর্ঘদিন পর তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে বেশ সর্তকই ছিলেন সাকিব আল হাসান। দেখেশুনেই এগোচ্ছিলেন তিনি। এর মাঝেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫-হাজার রান পূর্ণ করেন সাকিব। ব্যক্তিগত ১৭ রানে পা দিয়ে এই মাইলফল স্পর্শ করেন সাকিব। ফলে ক্যালিস-জয়াসুরিয়া-আফ্রিদিদের মত বিশ্বসেরা তারকাদের পেছনে ফেলে বিশ্বরেকর্ডও গড়েছেন সাকিব। কারন ৫ হাজার রানের পাশাপাশি ২শ’ উইকেট শিকার তিনি করেছেন নিজের ১৭৮তম ম্যাচে। ১৯৭তম ম্যাচে এই রেকর্ড স্পর্শ করে এতোদিন এই রেকর্ড দখলে রেখেছিলেন ক্যালিস।

রেকর্ড গড়া ম্যাচে ব্যাট হাতে নিজেকে ভালোভাবে মেলে ধরতে পারেননি সাকিব। ২টি চারে ৪৫ বলে ২৯ রান করেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকুরের সাথে ৫৯ রান যোগ করেন সাকিব। দলীয় ১২৬ রানে সাকিবের বিদায়ের ক্রিজে মুশফিকের সঙ্গী হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিছু সময় বাদে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ডেন প্যাটারসনকে কভারের উপর দিয়ে ছক্কা হাকিয়ে ক্যারিয়ারের ২৭তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন মুশফিক। এতে সাহস বেড়ে যায় অন্যপ্রান্তে থাকা রিয়াদের। তাই সময়ক্ষেপন না করে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন রিয়াদও। এতে দুশ’ রানের খুব কাছাকাছি পৌছেও যায় বাংলাদেশ।

কিন্তু দুভার্গ্য রিয়াদের। বাংলাদেশের দলীয় স্কোর যখন ১৯৫ রানে থাকতে বিদায় নেন তিনি। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ বলে ২৬ রান করেন তিনি। এ জুটিতে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬৯ রান যোগ করেন। এরপর সাব্বিরের সাথে বাংলাদেশের স্কোরটা উঁচুতে নিয়ে যাবার পথে হাটতে থাকেন মুশফিক। সেই সাথে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় পৌঁছেও যান তিনি। এমন সময় সাব্বিরের বিদায় দেখতে হয় মুশফিককে। মারমুখী মেজাজে ব্যাট চালানো শুরু করা সাব্বির ১টি করে চার ও ছক্কায় ২১ বলে ১৯ রান করেন থামেন। তার বিদায়ের পরের ডেলিভারিতেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক।

শেষদিকে সাব্বিরের সাথে ৪২ রান ছাড়াও, নাসিরের সাথে ১৬ ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সাথে জুটি গড়ে দলকে আরও ২৫ রান এনে দেন মুশফিকুর। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৮ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। মুশফিক ১১৬ বলে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ২ ঘন্টা ৪০ মিনিটের ইনিংসে ১১টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারি ছিলো। এছাড়া নাসির ২টি চারে ৮ বলে ১১ ও সাইফউদ্দিন ১টি করে চার ও ছক্কায় ১১ বলে ১৬ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা ৪৩ রানে ৪ উইকেট নেন। জয়ের জন্য ২৭৯ রানের টার্গেট ৪৩ বল হাতে রেখেই টপকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ডি কক ও আমলার জোড়া সেঞ্চুরিতে কাজটা সহজ হয়েছে প্রোটিয়াদের। এছাড়া বাংলাদেশ ফিল্ডারদের ক্যাচ তালুবন্দি না করতে পারার অবদানও ছিলো।

১৪৫ বলে ২১টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ১৬৮ রান করেন ম্যাচের সেরা ডি কক। ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি ইনিংস ছিলো তার। অন্যপ্রান্তে ক্যারিয়ারের ২৬তম সেঞ্চুরি তুলে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন আমলা। তার ১১২ বলের ইনিংসে ৮টি চার ছিলো।

পার্লে আগামী ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।

স্কোর কার্ড :
বাংলাদেশ ব্যাটিং :
ইমরুল কায়েস ক ডি কক ব প্রিটোরিয়াস ৩১
লিটন দাস ক ডু-প্লেসিস ব রাবাদা ২১
সাকিব আল হাসান ক আমলা ব তাহির ২৯
মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ১১০
মাহমুদুল্লাহ ক মিলার ব প্রিটোরিয়াস ২৬
সাব্বির রহমান ক প্যাটারসন ব রাবাদা ১৯
নাসির হোসেন ক আমলা ব রাবাদা ১১
মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ক প্যাটারসন ব রাবাদা ১৬
অতিরিক্ত (লে বা-৫, ও-১০) ১৫
মোট (৭ উইকেট, ৫০ ওভার) ২৭৮
উইকেট পতন : ১/৪৩ (লিটন), ২/৬৭ (ইমরুল), ৩/১২৬ (সাকিব), ৪/১৯৫ (মাহমুদুল্লাহ), ৫/২৩৭ (সাব্বির), ৬/২৫৩ (নাসির), ৭/২৭৮ (সাইফুদ্দিন)।
দক্ষিণ আফ্রিকা বোলিং :
রাবাদা : ১০-১-৪৩-৪ (ও-৫),
প্যাটারসন : ৯-০-৬৯-০,
তাহির : ১০-০-৪৫-১,
প্রিটোরিয়াস : ১০-০-৪৮-২ (ও-১),
ফেলুকুয়াও : ১০-০-৬০-০ (ও-৪),
ডুমিনি : ১-০-৮-০।
দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিং :
ডি কক অপরাজিত ১৬৮
আমলা অপরাজিত ১১০
অতিরিক্ত (ও-৪) ৪
মোট (শূন্য উইকেট, ৪২.৫) ২৮২
বাংলাদেশ বোলিং :
রুবেল : ৬-০-৩৭-০,
মাশরাফি : ৮.৫-০-৫০-০,
তাসকিন : ৮-০-৬১-০ (ও-১),
সাকিব : ৮-০-৪৮-০ (ও-২),
সাইফুদ্দিন : ৫-০-৪৬-০,
নাসির : ৫-০-২৯-০ (ও-১),
মাহমুদুল্লাহ : ২-০-১১-০।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচ সেরা : কুইন্টন ডি কক (দক্ষিণ আফ্রিকা)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ