আজ : শুক্রবার | ১লা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৭শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

এসডিজি অর্জনে স্বাস্থ্য আন্দোলন সহায়ক হবে : বিশেষজ্ঞ

sdgএডিটর ডেস্ক : জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃংখলা মানার মধ্য দিয়ে একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনের জন্য জনগণের মধ্যে একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি। একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এ কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পালমোনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ আজ বাসসকে বরেন, ‘অর্থনীতি ও শারীরিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। অতএব, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণের জন্য কর্মশক্তিতে পরিণত হতে আমাদেরকে দৈনন্দিন জীবনের জন্য একটা তালিকা তৈরি করতে হবে।’

তিনি বলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা, ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান না করা এবং সকাল সকাল ঘুমাতে যাওয়া ও সকালে ঘুম থেকে ওঠার মতো কতগুলো প্রয়োজনীয় বিষয়সহ এই তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং এই তালিকার ব্যাপারে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সরকার প্রচারণার উদ্যোগ নিতে পারে। ডা. শামীম সরকারি-বেসরকারি সেক্টরের অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, জনগণকে পোলিও, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস, ইয়েলে ফিভার ও নিমোনিয়াসহ সব ধরনের রোগের টিকা নিতে হবে যা তাদেরকে নানা ধরনের রোগ-বালাই থেকে সুরক্ষা দেবে।

কিউবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই উত্তর ক্যারেবীয় দেশটি রোগের বিস্তার রোধ করতে গ্রামীণ মেডিকেল সার্ভিস নেটওয়ার্ক, হাসপাতাল ও প্রিভেন্টেটেটিভ এন্ড স্পেশালাইজড ট্রিটমেন্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচারণা, স্বাস্থ্য শিক্ষা, নিয়মিত মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গণটিকা ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে মেডিকেল ও হাসপাতাল সেবা প্রদান করছে। ‘সামাজিক ও গণসংস্থার মাধ্যমে সারা দেশের জনগণ এই কার্যক্রম ও পরিকল্পনা সহায়তা করছে।’ ল্যাটিন আমেরিকার মধ্যে কিউবার স্বাস্থ্য সূচক সবচেয়ে ভাল এবং কতিপয় ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। কিউবার মতো সরকার এখানেও পাঠ্য বইয়ে স্বাস্থ্যসেবার বিধান অন্তর্ভুক্তকরণ এবং মৌলিক স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে জনগণকে আরো সচেতন করতে প্রচারনার কাজ শুরু করতে পারে। নতুন টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডার অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে জাতিসংঘ (ইউএন) দারিদ্র্য দূরীকরণ, ধরিত্রী রক্ষা ও সকলের জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ১৭টি লক্ষ্য ও ১৬৯টি সহযোগী টার্গেট গ্রহণ করেছে। ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে তিনটি লক্ষ্যই স্বাস্থ্যবান জীবন ও সকল বয়সের মানুষের কল্যাণে গৃহীত। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নে ২০১৬-২০২০ এর ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পপনার আওতায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন টার্গেট স্থির করেছে।

এসময়ের মধ্যে ৫ বছর বয়সের শিশুর মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৪১ থেকে ৩৭-এর কমিয়ে আনা হবে। প্রতি লাখে মাতৃ মৃত্যুর হার ১৯৪ থেকে ১০৫ এ কমিয়ে আনা হবে। প্রজনন হার দুই শতাংশে কমিয়ে আনা হবে এবং জন্ম নিরোধের ব্যবহার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ২০১৬-২০২০-এ শতভাগ শিশু হামের টিকা এবং ৬৫ শতাংশ নবজাতক দক্ষ স্বাস্থ্য কর্মীর সেবা পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ