আজ : শুক্রবার | ১লা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৭শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

“বিয়ে করেছেন ভাতিজা, তালাক দিবেন তার চাচা!”

probashiএইচ এম অাতিক ইকবাল, (শরীয়তপুর) প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর সাথে প্রতারনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতালী প্রবাসী স্বামী এবং চাচা শ্বশুরের বিরুদ্ধে “১৯৮০ সনের যৌতুক নিরোধ অাইনের ৪ ধারায়” অভিযোগ দায়ের করে ন্যায় বিচার দাবি করেন মুনিরা-১৯(রুপক নাম) নামে এক গৃহবধু।

গত ০৯ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখে শরিয়তপুর চীফজুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট অামলী অাদালতে বিজ্ঞ উকিল মারফত উক্ত গৃহবধূ নিজে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ১নং অাসামী বাদীর স্বামী ইতালী প্রবাসী অাজিজ অাকবর (২৭) নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামের অালি অাকবর মাদবরের পুত্র এবং মামলার ২নং অাসামী বাদীর অাপন চাচা শ্বশুর ছায়েদ মাদবর, মৃত অাইয়ুব অালি মাদবরের পুত্রের নামে অভিযোগ দায়ের করলে অাদলত তা গ্রহন করে ।

বাদীর পরিবারসূত্র জানায়, রাজধানীর মিরপুর পল্লবিতে বসবাসকারী রহিম বেপারী ও রোকসানা বেগমের কন্যা মুনিরা-১৯ রুপক নাম ব্যবহৃত ও বাসার ঠিকানা যথোপযুক্ত কারনে গোপন রাখা হয়েছে। জন্ম হতে পিতামাতার সাথে ঢাকায় বসবাসরত মুনিরা গত ২০১৬ইং জানুয়ারীতে তার নানা বাড়ি নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নে পাঁচগাও গ্রামে বেড়াতে হেলে স্বজনের মাধ্যমে খবর নিয়ে ইতালী প্রবাসী অাজিজ অাকবরের(২৭) জন্য ছোট বোন ঝুমুর (২৫) ও চাচা ছায়েদ মাদবর মুনিরার(ছদ্য নাম) অভিবাবকদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়।

‘এতো তারাতারি মেয়েকে বিয়ে দিবেন না অভিবাবকগন তাই প্রস্তাব নিয়ে অাশা উপরোল্যেখিত প্রবাসীর বোন ও চাচা দীর্ঘদিন অাত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে অাকুতিমীনতি করতে থাকালে অাত্বীয় স্বজনদের অনুরোধেই প্রায় তিন মাস পরে রাজি হন মেয়েকে বিয়ে দিতে। প্রবাসী অাজিজ অাকবর ইতালি থেকে গত ১০-১০-২০১৬ তারিখে তার দেশে অাসেন। তার বাবা-মা ইতালী থাকায় তাদের সম্মতিতেই বোন ঝুমুর কে নিয়ে তার অাপন চাচা ছায়েদ মাদবর পরদিন ১১-১০-২০১৬ ইং তারিখেই উভয়পক্ষের অভিবাবক ও স্বজনদের উপস্থিতিতে মুসলিম বিবাহ অাইনেই কাবিন রেজিস্ট্রি মুনিরা-১৯(ছদ্যনাম) ও অাজিজের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন।

বিয়ের কিছু দিন পর নিজের অাইফোন বিক্রি করে সে টাকায় তার দেনা শোধ করার কথা জানিয়ে স্ত্রী কে জানয় তার বাবা কিছিদিন পর দদেশে অাসবে অার এসে যদি ঐ ফোনটা না দেখে তাহলে অার জীবনে অার কিছুই কিনে দিবে না। এখন উপাশ তার স্ত্রী! তার অনুরোধেই স্ত্রী মুনিরার ইতালী প্রবাসী মামা বাদলের নিকট হতে অাইফোন6+ কেনার জন্য ৯৭হাজার টাকা অানা হয় কিন্তু অাইফোন কেনা হয়নি। বিয়ের দেনমোহর বাবদ পরিশোধ করা স্বর্নালংকার হতে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার গহনা রেখে বাকি গহনা বিক্রি করে এসে অাজিজ স্ত্রী বলেন, ৩ লক্ষ ৫০হাজার টাকা পেলাম, কিছুদিন পর অানার কিনে দেবো, বাড়ির কাজ ধরে অামাদের হাত খালি হয়ে গেছে, টাকাপয়সা হাতে অাসলেই কিনে দেব।

কিছু দিন না যেতেই ঢাকায় জমি কেনার কথা জানিয়ে শ্বশুরের নিকট ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেনে দাবি করেন, টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় মুনিরার উপর শুরু হয় মানুষিক চাপ। চাচা-শ্বশুর ছায়েদ মাদবর বলেন, মেয়ের জামাইকে টাকা দিতে কি এতোদিন লাগে?বাবার বাড়ি যাও, বলো ৫ লাখ টাকা দিলে এ বাড়িতে তোমাক রাখা হবেনা, তাহলেই দিবে, এমনি কি অার দিবে?। মুনিরার বাবা-মা খবর পেয়ে গত ০৮-০১-২০১৭ইং তারিখ মেয়ের শ্বশুরবাড়ি যায়, তারা মেয়ের জামাইকে বোঝানো চেষ্টা করেন, অামাদের কাছে থাকলে অামরা এমনিতেই দিতাম, বিয়ের পর থেকেই তোমাদের কাছ থেকেইতো শুনেছি বাড়ির কাজ করাতে গিয়ে  টাকার সমস্যায় অাছো , সবসময় তো টাকার সমস্যা থাকেনা,ধৈর্য ধরো, সব ঠিক হয়ে যাবে। কে শোনে কথা? মেয়ের জামাই অাজিজ শ্বশুর-শ্বাশুরীকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল গালমন্দন্দ শুরু করে, তার চাচা ছায়েদ মাদবর ঘরের দরজার সসামনে এসে বলেন, তোর শ্বশুর শ্বাশুরীকে এই বাড়ি থেকে এখনই যেতে বল, তাদের মেয়কে নিয়ে বের হতে বল, না হলে অপমান করে বের করবো?।
মেয়েকে নিয়ে মা-বাবা একই ইউনিয়নে মুনিরার নানা বাড়িতে উঠেন। মেয়ের শ্বশুর অালী অাকবর মাদবর তখন বাংলাদেশে কিন্তু ঐ দিন ঢাকায় ছিলেন। মুনিরার(ছদ্যনাম) পিতা সমস্ত বিষয় তাকে জানান, সমাধানের জন্য অনুরোধ করেন, সে প্রথমে নিরব, কয়েকদিন পর অাবার অনুরোধ করলে সে সবাইকে নিয়ে বসতে রাজি হন, তারপর একদিন কোনকিছু না বলেই ইতালি চলে যান।

১০-০১-২০১৭ তারিখে চাচা শ্বশুর ছায়েদ মাদবর মুনিরাকে জানান, তার স্বামী অাজিজ ইতালী চলে গেছে, যাওয়ার অাগে বলেছেন দুই দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তোমাকে তালাক দিবে। গত ০৭-০৮-২০১৭ তারিখে স্বাক্ষর  দেওয়া একটি কাগজ ইতালি হতে মুনিরাকে পাঠায়, ওই কাগজটির বরাত দিয়ে তার চাচা অাজিজ মাদবর মুনিরার স্বজনদের জানান তার ভাতিজা মুনিরাকে তালাক দিয়েছে,তালাকের বাকি কাজ চাচার দ্বায়িত্বে দেয়া হয়েছে। কিন্ত ঐ কাগজটি ভূয়া বলে মনে করেন মুনিরার পরিবারের স্বজনরা জানান, কম্পিউটারে টাইপ করে নিচে স্বাক্ষর দিয়ে একটা কাগজ পাঠিয়ে দাবী করে ওটা তালাক! দেখেন এটাতে প্রথমে লেখা “উকিল নোটিশ”, কোন দপ্তরের সিল স্বাক্ষর নেই,কাগজের শেষ অংশে অাবার লেখা ‘অাবেদন”! ওর চাচাকে দ্বায়িত্ব দিয়েছে বাকি কাজ শেষ করতে। এমন জালিয়াতির বিচার চাই।

উপরোক্ত বিষয়ে সরাসরি অভিযুক্ত অাসামীদের  বাড়িতে গেলে কোনভাবেই তাদের সাথে কথাবলা যায় নি। স্থানীয়রা জানান অাজিজ মাদবরদের সবাই ইতালি থাকেন, অার তার চাচা ছায়েদ মাদবর দেশে থাকেন। তবে অাজ দেখিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ