আজ : শুক্রবার | ১লা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৭শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে পত্নীতলার ঐতিহাসিক কাঞ্চনদীঘি

news pic (3)সবুজ, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর পতœীতলা উপজেলার ঐতিহাসিক অন্যতম একটি হল কাঞ্চনদীঘি। কাঞ্চনদীঘি পতœীতলার নজিপুর শহর হতে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এই দীঘিকে অনেকে কাঞ্চনদীঘি না বলে হয়রত জহরউদ্দীন চিশÍী (রা:) মাজর বা দীঘি বলে থাকেন। দীঘিটি গোলাকার, তবে বিশেষভাবে লক্ষ্য করলে উওর দক্ষিণে কিঞ্চিৎ লম্বা বলেও মনে হয়।

দীঘিটির উওর পূর্ব পাড়ে ও দক্ষিণ পাড়ে দুইটি গ্রামে জনবসতি রয়েছে। এখানকার অধিকাংশ বসবাসকারীই হল মুসলমান ও অল্প সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এ দুটি গ্রামের নাম যথাক্রমে বাদ- পুঁইয়া ও কাঞ্চন। বস্তুত: দীঘিটি বাদ- পুঁইয়া ও কাঞ্চন দুটি মৌজার সংযোগ স্থলের মধ্যে অবস্থিত। উওর ভাগ হলো বাদ-পুঁইয়া মৌজা ও দক্ষিণ ভাগ হলো কাঞ্চন মৌজা।

দীঘিটির পশ্চিম পাড়ে সুশীতল বট বৃক্ষের ছায়া তলে পীর জহরউদ্দীন চিশÍী (রা:)’র পবিত্র মাজার শরীফ পর্যটক ও ভক্তদেও নয়ন মনকে আকর্ষণ করে। চতুস্পার্শে সুউচ্চ ইস্টক বেদীর ভিতরে সিমেন্ট বাঁধানো পীর সাহেবের প্রাচীন মাজার শরীফ। অধুনা বেদীগুলোর কোন কোন অংশ যতœাভাবে নষ্ট হয়ে থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় দীঘিটিসহ পীর সাহেবের মাজার পুনঃমেরামত করা হয়। এতে দীঘিটি বর্তমানে দেখতে অতীব সুন্দও হয়েছে। স্বচ্ছ সলিলা গোলাকৃতি কাঞ্চন দীঘিটি পীর জহরউদ্দীনের দীঘি, দক্ষিণ দেশীয় সারোদা গোঁশায় নামে জনৈক বৈষ্ণব প্রচারক খনন করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। পরর্বতীতে ঘটনাক্রমে দীঘিটি পীর জহরউদ্দীনের আওতাধীন হয় ও জহরউদ্দীনের দীঘি বলে থ্যাত হয়।

দীঘির চতুর্দিকে ভ্রমণ করে দেখলে মনে হবে যে, কোন কালে স্থানটি এক গভীর অরণ্যে মধ্যে বির্স্তৃণ প্রান্তর ছিল। দীঘির দক্ষিণ পূর্ব কোন দিক হতে নিকটস্থ আত্রাই নদী পর্যন্ত একটি সংকীর্ণ খালের বা নালার নিশানা আজও দেখতে পাওয়া যায়। লোকে বলে এটা জহরউদ্দীনের দাঁড়া। এই দাঁড়াটি পীর সাহেবের এক অলৌকিক ক্ষমতার পরিচায়ক। দক্ষিণ পূর্ব কোন দেশে কাঞ্চন দীঘির মঠ বা সমাধি এবং তৎসংলগ্ন একটি ঢিপিকে গোঁস্বামীর ঢিপি বা ঢিপিরী বলা হয়। এই মঠ ও ঢিপরীও নাকি পীর সাহেবের অলৌকিক নিশানা। প্রায় কয়েক যুগ আগে বৎসরের একটি বিশেষ দিনে এই মঠ ও ঢিপরীর উপরে তেল, সিন্দুরাদি ও ধুপ দিয়া হিন্দুরা ঢাক, ঢোল পিটিয়া যেত যা আজ আর হয় না।

বসরের একটি বিশেষ দিনে উক্ত মাজার শরীফ এলাকায় ওয়াজ মাহফিল ও ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাজার হাজার ধর্ম প্রাণ মানুষ শরীক হন। পীর জহরউদ্দীন চিশÍী (রা:) ছিলেন একজন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তার অলৌকিক জনশ্রুতিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি উদাহরণ হলো- এক সময় স্থানীয় হিন্দু মুসলমান বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান সমাপনে বাসনগুলো পুনরায় দীঘিতে ডুবিয়ে দিতে হত কিন্তু এক সময়ে বাসন ডুবানোর সময় একটি বাসন কমতি হওয়াই স্থানীয় লোকজন সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। এ সব কাহিনীর অনেক ক্ষেত্রে কিংবদন্তীর মতো শোনালেও ক্ষেত্র বিশেষ ইতিহাসে তা অস্বীকার করে যেতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ