আজ : শুক্রবার | ১লা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৭শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

ঈশ্বরদীর সফল লিচু চাষি জিল্লু

11ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক : ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল করিম বিশ্বাসের ছেলে জিল্লু সেভ এগ্রো ফার্মের স্বত্তাধিকারি মোঃ নাজমুল ইসলাম জিল্লু বিএ অনার্স পাশ করে চাকরি কিংবা ব্যবসাতে না গিয়ে কৃষিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিশ্রম মানুষকে ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় তার বাস্তব প্রমাণ জিল্লু নিজেই। একমাত্র কৃষিই তার প্রধান পেশা। দীর্ঘ দিন থেকে তিনি লিচু চাষ করে আসছেন। তার বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় লাল টকটকে লিচু ঝুলে আছে। এবার তিনি লিচুর বাম্পার ফলন পেয়েছেন।

লিচু চাষি জিল্লু বলেন, ২০০৬ সালে মা-মাটিকে ভালোবেশে কোন কিছু না ভেবে কৃষিতে জড়িয়ে পড়ি। কৃষিকে এখন আর ছোট করে দেখার উপায় নেই। আধুনিক কৃষি দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করে তুলছে। কৃষকেরা কায়িক পরিশ্রম করে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে কৃষি পণ্য উৎপাদন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে সোনার বাংলায় রুপান্তরিত করতে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সঠিক পরামর্শ ও সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। অন্যান্য বাগানের চাইতে তার লিচু বাগানে এবার ব্যাপক ফলন হয়েছে। সেই সাথে লিচু আকারে বড় এবং মূল্যও পেয়েছেন গতবারের চেয়ে বেশি। এবার তার খামার থেকে ১০ থেকে ১১ লক্ষ টাকার লিচু বিক্রয় করবেন বলে তিনি এ কথা জানান। তিনি আরও বলেন, লিচু বছরে মাত্র একবার ফলন দিয়ে থাকে। প্রতি বছর একই ভাবে গাছে লিচু আসেনা। একবার বেশি হলে অন্যবার ফলন কম হবে। ঈশ্বরদীতে একটি আধুনিক মানের লিচুর হিমাগার স্থাপন হলে এই লিচু সারা বছর রেখে বিক্রি করা যাবে। এতে লিচু চাষিরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ও বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির কেন্দ্রিয় সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজ বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবছর ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার বেশির ভাগ বাগানে এবার লিচু নেই। লিচু চাষ করে উপজেলার কৃষকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। জিল্লুর লিচু বাগান পরিদর্শন করে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। ঈশ্বরদীর সেরা লিচু এখন কৃষক জিল্লুর বাগানে। সঠিক ভাবে পরিচর্যার কারণে জিল্লুর গাছের লিচু পরিমাণে বড় রংও সুন্দর হয়েছে। লিচু সংরক্ষনের জন্য ঈশ্বরদীতে একটি আধুনিক মানের লিচুর হিমাগার স্থাপনে সরকারের কাছে তিনি দাবি জানান।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রওশন জামাল জানান, এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হলেও বৈরী আবহাওয়ায় ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। উপজেলার অনেক বাগানের গাছে মুকুল না আসায় এবার লিচু ধরেনি। উপজেলার অন্য লিচু বাগানের চাইতে জিল্লুর বাগানের গাছে প্রচুর পরিমাণে লিচু এসেছে। একই সাথে লিচু আকারে বড়, দেখতে সুন্দর খেতেও সুস্বাদু, রং টকটকে লাল। তিনি জানান, শিক্ষিত যুবক জিল্লু কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে লিচু গাছের পরিচর্যা করার কারণে তার লিচু বাগানে ফলন ভালো হয়েছে। এ বছর জিল্লু লিচু বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ