আজ : শুক্রবার | ১লা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৭শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

রাঙ্গামাটি ভালো নেই আজ একটুও

1মন্নু চাকমা, রাঙ্গামাটি : দেশের প্রায় সবারই প্রিয় শহর রাঙ্গামাটি আজ একটুও ভালো নেই। শহর হয়েছে আজ দুর্যোগকবলীত কান্নার নগরী। প্রকৃতির কান্নায়ই এই প্রিয় শহরটা ভালো না থাকার মূখ্য কারন। একটার পর একটা ঘটনা ঘটেই চলছে এই শহরে।
৩০ মে, সেদিন ঘূর্নিঝড় “মোরা” বেশ ভালো ভাবেই হানা দিয়েছে রাঙ্গামাটি শহরে। বলতে গেলে সেদিন বেহাল দশাই হয়েছিলো। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে পড়েছিল আর গাছের নিচে পড়ে ২জন মারাও যায়। একজন ক্লাস নাইনের মেয়ে আর দ্বিতীয়জন মধ্যবয়স্ক মহিলা। সেবারের ঘূর্নিঝড়ের হানায় দুইদিন একরাত পুরো শহর অন্ধকারে ডুবে ছিল। কিছু কিছু এলাকায় অন্ধকারে ডুবে ছিল প্রায় ৫-৬ দিন, কারন মোরার হানায় ঐসব এলাকায় বিদ্যুতের খুটিঁ উপড়ে পড়ে হয়েছিলো বেহাল দশা। এই দুর্যোগ থেকে মানুষ কোন মতে নিজেদের সামলে নিতে না নিতেই এলো আরেকটি দুর্বিসহ দিন।
২ জুন, এ দিনটির কথা কিভাবে ভোলা যায়। পুরো দেশের মানুষ দেখেছে তা। দুপুরের দিকে খবর এলো লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে সেটেলার বাঙালিরা কারন একজন সেটেলার বাঙালি হত্যা হয়েছে তাই। এই ঘটনায় ঘর ছাড়া হয়েছে প্রায় ৩০০ পরিবার আর স্থানীয় সূত্রে আগুনে পুড়ে ৩-৪জন মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ৩০০ পরিবার মানেই তো প্রায় ২০০০ জন মানুষ। আমি হয়তো ওই পরিবারের কারোর পরিচিত নই তবুও মনে হয়েছে নিজের ঘর পুড়েছে বা নিজের শরীর পুড়ছে কারন আমিও একজন পাহাড়ি, তারচেয়ে বড় কথা আমি একজন মানুষ। আমি জানি না সেদিনের ঘটনার মূল কারন বা ঘটনা কে ঘটিয়েছে। কে হত্যা করেছে নয়নকে। আমি শুধু জানি নয়নের সাথে যা ঘটেছে খুব খারাপ হয়েছে। নয়নও কারো ছেলে, কারো ভাই, কারো বন্ধু, কারো স্বামী বা কারো পিতা। কিন্তু এই হত্যার সত্যটা না বের করে এভাবে এতগুলো পরিবারকে ঘর ছাড়া করা, গ্রাম ছাড়া করা, নিস্ব করা বা মানুষ পুড়িয়ে মারাটা কিসের ঠিক কাজ হলো? নয়নকে যেই হত্যা করুক তার ফল ভোগ করবে কেন এতগুলো মানুষ? একবারও কি ভেবে দেখেছেন এত মানুষ এমন বৃষ্টিতে কোথায় আছে, কি খাচ্ছে বা পরছে তারা? নয়নকে পাহাড়ি হত্যা করুক বা বাঙালি হত্যা করুক, যেই হত্যা করেছে তাদের বের করে শাস্তি দিলেই তো হতো এভাবে না জেনে শুধু সন্দেহের জের ধরে এত মানুষের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার মাঝে ন্যায় বলে তো আমি কিছুই খুজেঁ না পায়!
১৩ জুন, টানা দুদিনের বর্ষনে রাঙ্গামাটি শহর কাদঁছে মৃত্যুর কান্নায়। পুরো শহরের প্রতিটি এলাকায় একটু হলেও পাহাড় ধসে পড়েছে। পাহাড় ধসে শহরের মৃত সংখ্যা দাড়িয়েছে চার সেনা সদস্যসহ ১৫৬ জন। সেনা সদস্যদের সরকারের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হচ্ছে, দেয়া হচ্ছে শ্রদ্ধাঞ্জালী, কারন উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয় অার সাধারন মানুষ যারা মাটি চাপায় মারা গেছে তাদের জন্যে শোকবার্তা, হায়রে। এখনো উদ্ধার কাজ চলছে। হয়তো এখনো কিছু মৃত দেহ পরে আছে মাটি চাপায় হয়তো কয়েকজনকে খুজেঁও পাওয়া যাবে না।
টানা বর্ষনের ফলে আবার অন্ধকারে তলিয়ে গেছে, বিদ্যুৎ এসেছে চারদিন-তিনরাত পর। এখনো কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ আসেনি। শহরে পাহাড় ধসে মানুষ মারা গেছে আর কিছু কিছু উপজেলায় পানিতে তলিয়ে গেছে ধানি জমি বা ধান ক্ষেত। শহরটা আজ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। যোগাযোগের প্রতিটি রাস্তা টানা বর্ষনে ভেঙে গেছে। ভেঙে যাওয়া রাস্তা গুলি কতো দিনে সংস্কার হবে তারও কোন হিসাব আর এই অসুবিধার সু্যোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য এবং প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করছে চওড়া দামে। হায়রে মানবতা! তবুও আশায় আছি আমাদের প্রিয় শহর আবারো সুন্দর হয়ে উঠবে। স্বাভাবিক হবে শহরের জনজীবন। বৃষ্টি নামুক আর্শিবাদ হয়ে অভিশপ্ত হয়ে নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ